ঢাকা রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ই আশ্বিন ১৪২৭


সমকামিতায় খুন অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য!


প্রকাশিত:
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২১:২০

আপডেট:
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৪:০৯

ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্কঃ সমকামিতার মাধ্যমে এক কিশোরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানের। দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে চলে ফোনালাপ ও সমকামিতা। কিশোরের মোবাইল খরচ এবং পকেট খরচও দিয়ে আসছিলেন নুরুজ্জামান। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা তোলার কথা শুনেই হত্যার পরিকল্পনা করে ওই কিশোর।

তিন সহযোগীকে নিয়ে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর নুরুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনার ১ বছর পর গ্রেফতার করা হয়েছে ওই তিন কিশোরকে। মোবাইল ট্র্যাকিং ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধার করেছে ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলো- শহরের হামদহ দাসপাড়ার শাহাবুদ্দীনের ছেলে আরাফাত (১৭), শহরের পাওয়ার হাউস পাড়ার মিন্টুর ছেলে নিশান (১৭) ও সদর উপজেলার রতনহাট গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মিরাজ (১৬)। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে ডিবি পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, প্রতিবেশী কিশোর আরাফাতের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানের স্থানীয় চায়ের দোকানে পরিচয়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক ও তা এক পর্যায়ে রূপ নেয় সমকামিতায়। এ কারণে প্রায়ই নুরুজ্জামানের বাড়িতে যেত আরাফাত। দীর্ঘদিন ধরে আরাফাতকে মোবাইল খচর ও পকেট খরচ দিতেন তিনি। নুরুজ্জামানের স্ত্রী রাশিদা বেগম অসুস্থ হওয়ায় প্রায়ই হাসপাতালে থাকতেন তিনি। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিদা বেগম অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা তোলার বিষয়টি আরাফাতকে বলেন নুরুজ্জামান।

ঘটনার দিন রাতে আরাফাত ও তার সমবয়সীদের বাসায় ডাকেন নুরুজ্জামান। এক বন্ধুকে পাহাড়ায় রেখে আরাফাত তার দুই বন্ধুকে নিয়ে রাত ৮টার দিকে বাসায় যায়। সেখানে সমকামিতায় লিপ্ত হয়। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নুরুজ্জামানকে শ্বাসরোধ, মাথায় ও গোপনাঙ্গে আঘাত করে ঘরে থাকা টিভি, মোবাইল ফোন, কাপড়, প্রসাধনী সামগ্রী একটি ট্রলি ব্যাগে ভরে পালিয়ে যায়।

পরদিন সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাশিদা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম। ক্লু-লেস হত্যা হওয়ায় তদন্তে বেগ পেতে হয় ওই পুলিশ কর্মকর্তার।

শুরুতে লুট হওয়া মোবাইল বন্ধ থাকায় ব্যবহারকারীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে এলাকায় খোঁজ খবর শুরু করেন পরিদর্শক নজরুল ইসলাম। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আরাফাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে প্রথম সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। আরাফাতের সঙ্গে অন্যদের বন্ধুত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাড়ানো হয় সন্দেহের তালিকা।

পরে মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ব্যবহার করে আরাফাতের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করে আরাফাতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে সে। আরাফাতের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও তিনজন নিশ্চিত হলে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা নিশান ও মিরাজকে। কিলিং মিশনে অংশ নেয়া আরও একজন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আরাফাত ১৩ সেপ্টেম্বর এবং নিশান ও মিরাজ ১৪ সেপ্টেম্বর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: