
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রকৃতিতে রাজত্ব চলছে হেমন্ত কন্যার। ভোরের ঘাসে শিশিরের উপস্থিতি আর সকালের সোনা রোদ জানান দিচ্ছে, এরপরই আগমন ঘটবে শীতের। কার্তিক আর অগ্রহায়ণ— এ দুই মাস নিয়ে হেমন্তকাল। এ অবস্থায় চলে আসছে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু। ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমছে। হেমন্তের এই সময়ে এসে আসি আসি করছে শীত। ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে কুয়াশাও।
হেমন্তের মূল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় গ্রাম বাংলায়। কুয়াশার চাদর ইতোমধ্যেই আলতো মায়ার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে গ্রামের পথ প্রান্তরে। বর্ষায় লাগানো আমন ধানে ধরেছে সোনালি পাক। অধরে তৃপ্তির হাসি নিয়ে কাঁচি হাতে তাই ফসলের খেতে যাচ্ছেন কৃষকরা। এইতো কদিন বাদেই ঘরে তোলা হবে নতুন ফসল, শুরু হবে নবান্ন উৎসব। ফসলের মাঠ তার পুরো সৌন্দর্য নিয়ে সেজেছে। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ জুড়ে পাকা ধানের সোনালি আভাই জানান দিচ্ছে হেমন্তের শাসনকাল আর দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
আবহাওয়া অফিস বলছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি চাঁপাইনবাবগঞ্জে শীতের প্রভাব বেড়ে যাবে। এছাড়া ২০ নভেম্বর থেকে দেশের অনেকাংশে তাপমাত্রা কমে যাবে।গত কয়েকদিন ধরেই দিনের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। আর রাতের তাপমাত্রা নেমে আসছে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।
আবহাওয়াবিদরা জানান, শীত বা ঠাণ্ডার অনুভূতি গ্রামাঞ্চল এবং শহরতলীতে পড়ে গেছে। তবে ঝাঁকানো শীত এখনি আসবে না। তিনি বলেন, তাপমাত্রা একটু একটু করে কমছে। ২০ নভেম্বরের দিকে আরও কমে যাবে, তখন ১৫ থেকে ১৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকবে অনেক অঞ্চলে।
হেমন্তের সকালে হালকা কুয়াশার আচ্ছাদন। হেমন্ত মানেই প্রভাতের শিশির ভেজা শিউলি। ঝিরিঝিরি বাতাসে দোল খাওয়া ধব ধবে কাশবন। আকাশেও নেই কোন মেঘমালা। নীল আকাশে ভাসছে সাদা মেঘের ভেলা। নদীর কুলে ফুলে ফুলে সুশোভিত সাদা কাঁশবন। বাংলার প্রকৃতি যেন আজ অনেকটাই মসৃণ। বাতাসে শীতের আনাগোনা না থাকলেও অতটা তীব্রতা নেই রোদের তাপ। তবে দুপুর বেলায় রোদের তাপের তীব্রতা একটু বেশী থাকলেও সূর্য হেলে গেলেই তা কমে যায়। গ্রামের দিকে বিকেলে আর শেষ রাতে অনুভূত হয় শীতল আমেজ।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: