ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ৬ই আগস্ট ২০২০, ২৩শে শ্রাবণ ১৪২৭

টুং টাং শব্দে মুখরিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের কামার পল্লী


প্রকাশিত:
২৭ জুলাই ২০২০ ২১:০৯

আপডেট:
৬ আগস্ট ২০২০ ১৫:১৬

নিউজ ডেস্ক : টুং টাং শব্দে মুখরিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের কামার পল্লী। ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কামারদের ।

আর কিছুদিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। ঈদের আমেজ কম বেশি সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঈদে গরু, ছাগল, উটকে কোরবানি পশু হিসেবে জবাই করা হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কোরবানির পশু জবাই চলে।

এসব পশুর গোশত কাটতে দা-বটি, ছুরি-ছোরা, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার অপরিহার্য। তাই এই ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মুরাদনগরের কামার শিল্পীরা। হাতুরির টুং টাং আওয়জে মুখরিত হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন হাট বাজারগুলো। টগবগে লাল হয়ে উঠা লোহার উপর ভারি হাতুরি দিয়ে কেউ পেটাচ্ছে, কেউবা কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছে, কেউবা শান দিচ্ছে ছুরি,দা,বটি ইত্যাদি। দিন রাত অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

এই ব্যস্ততার মাঝেই চলছে বেচাকেনার কাজ। কোরবানি দাতারা তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য ছুটে আসছে কামারদের দোকানে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারনে আগের মত ক্রেতা না থাকলেও ব্যস্ততার কমতি নেই কামার শিল্পীদের।

জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই ব্যস্ততার চিত্র দেখা যায়। কথা হয় বিভিন্ন ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে। কোরবানির জন্য বটি ও ছুরি কিনতে আসা ক্রেতা আব্দুল বাশির বলেন, 'কোরবানির গরু কাটার জন্য নতুন নতুন দা ছুরির প্রয়োজন হয়। এ জন্য প্রতিবছরই যন্ত্রপাতি কিনতে হয়। এবারও বটি ও ছুরি কিনেছি। আগের তুলনায় যন্ত্রপাতির দামটা এবার একটু বেশি।'

জেলার সদরের কামার শিল্পী ভঞ্জন কুমার জানান, বছরের বেশির ভাগ সময়ই আমাদের কাজ কম থাকায় বেশির ভাগ সময়ই অলস সময় কাটাতে হয়। সারা বছর এই ঈদের অপেক্ষায় থাকি। ঈদ এলেই মনে হয় যেন আমাদের ভাগ্যের সুদিন এসেছে। তাই নিরলস পরিশ্রম করে তৈরী করি বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি। তবে এবার করোনার মহামারীর কারনে অন্যান্য বছরের তুলনায় কাজের চাপ কিছুটা কম।

অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কামার শিল্পী প্রশান্ত কুমার জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কাজের চাপ কম। তাছাড়া লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিশ্রমের তুলনায় তেমন দাম পাওয়া যাচ্ছেনা।

বাজারে ঘুরে দেখা যায়, আকার ভেদে একশ থেকে পাঁচশ টাকার মধ্যে বিভিন্ন হাতিয়ার বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে চাপাতি ৩০০-৫০০ টাকা, ছুরি ৩০-৪০০ টাকা এবং বটি ২০০-৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বড় ছুরি ৪০ টাকা, চাপাতি ৫০ টাকা, দা ৫০ টাকা ও ছোট ছুরি ২০ টাকায় শাণ দেওয়া হচ্ছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: