ঢাকা বুধবার, ২৫শে মে ২০২২, ১২ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নতুন নির্দেশনা


প্রকাশিত:
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১০:৩৮

আপডেট:
২৫ মে ২০২২ ১০:০৯

নিউজ ডেস্কঃ করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ইতোমধ্যে স্কুল-কলেজের চলমান ছুটি আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এ ছুটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা-সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

উপসচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা ঠেকাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার চিঠি অনুযায়ী আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকবে। তবে এ সময় টেলিভিশন ও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকবে।

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কার্যক্রম চালু থাকবে বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ ও সমপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকবে।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি থেকে স্কুল-কলেজ ও সমপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা চলবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এর আগেই অবশ্য করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময় ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পরীক্ষা শুরু হবে। সব পরীক্ষার পরিবর্তিত বিস্তারিত সময়সূচি এরই মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে www.nu.ac.bd দেওয়া হয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় সরকার। প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১২ সেপ্টম্বর খুলে দেওয়া হয় স্কুল-কলেজ। পরে খুলে দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ও।

সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিরুদ্ধে ইউনেস্কো অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার নিজস্ব সিদ্ধান্তে ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়৷ এ করোনায় বিশ্বের কয়েকটি দেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে। তারমধ্যে বাংলাদেশ একটি।

অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য অভিজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি বলেন, জাতীয় পরামর্শক কমিটির মতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করোনার হটস্পট নয়৷ তারপরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলো৷ আবার তা বাড়ানো হলো৷ সদ্য শেষ হলো বাণিজ্যমেলা, সবকিছু খোলা আছে৷ সবাই বাইরে যাচ্ছেন৷ মাস্ক পরার কোনো আগ্রহ নেই স্বাস্থ্যবিধি কেউ যেমন মানতে চাইছেন না। মানানোর ব্যাপারে সরকারের কোনো উদ্যোগও নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের ঘরে রেখে কী লাভ! বাইরে থেকে যারা ঘরে ফিরছেন তারা তো স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। সুতরাং ঘরে থেকেও তারা সংক্রমিত হচ্ছে৷

অপরিকল্পিতভাবে সব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে জাতীয় পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা না হয় সেই বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে৷ শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে৷ আগে যেটা ছিল না৷ কিন্তু এবারের পর যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ আর বাড়ানো না হয় সে বিষয়ে বলা হয়েছে।

তার মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা মানে হচ্ছে শিশুরা যেতে বাধ্য। সেটা আমাদের ভাবতে হবে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: