
কফি ছাড়া কেউ দিন শুরু করতে পারেন না বললেই চলে। আবার কারো কারো রাত জাগাও কফি বিনে অপূর্ণ থেকে যায়। তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে কফি বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্যশিল্প। আধুনিক পৃথিবীতে কফির সর্বাধিক প্রচলন উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে। তবে আফ্রো-এশিয়া ও ওশেনিয়ার বহু দেশে মানুষ প্রতিদিন কফি পান করে। বিবিসির একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি কাপ কফি পান হয় পৃথিবীতে।
কফির বীজ বিশ্বের সত্তরটিরও বেশি দেশে উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রিন কফির চাহিদা অপরিশোধিত তেলের পর ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহৃত পণ্যের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
সারা বিশ্বে কফি জনপ্রিয় একটি পানীয়। কফির আবিষ্কারক খালেদি। তিনি কোনো বিজ্ঞানী নন, সাধারণ এক মুসলিম রাখাল। আরব-ইথিওপীয় খালেদি নবম শতকে জনপ্রিয় এই পানীয়র ব্যবহার শুরু করেন। খালেদির মেষগুলো প্রায়ই ক্লান্ত হয়ে যেত। হঠাৎ একদিন তিনি দেখলেন, মেষগুলোর ক্লান্তিভাব দূর হয়ে গেছে। উদ্যম ও চঞ্চলতায় ভরে উঠেছে সেগুলো। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি লক্ষ করলেন, মেষগুলো চেরি ফলের মতো কী যেন খাচ্ছে। ধর্মপ্রাণ খালেদি গাছ থেকে কয়েকটি ফল নিয়ে দ্রুত হাজির হলেন স্থানীয় মসজিদের ইমামের কাছে। ফলগুলো কাঁচা খাওয়া সম্ভব হবে না ভেবে ইমাম পাশে রাখা জ্বলন্ত আগুনে ফেললেন। দেখলেন আগুনের ভেতর থেকে বিমল ঘ্রাণ বের হচ্ছে। পরে ইমামের শিষ্যরা ফলগুলো সিদ্ধ করে গরম পানিসহ পান করলেন। এভাবেই পৃথিবীর পানীয় হিসেবে কফির ব্যবহার শুরু হয়।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: