
বিকেল বেলা কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ করেই চোখে পড়ল কয়েকজন ছেলে মেয়ে। তদেরকে দেখলাম তারা দুটি কাপে একটি সুতা জুড়ে দিয়ে একজন একটি কাপ কানে ধরছে আর আরেক জন অন্য কাপে কথা বলছে। এইভাবে সুতার মাধ্যমে এক কাপ থেকে অন্য কাপে কথা আদান প্রদান হচ্ছে।
তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারি, এক জনের নাম মুসফিক ইসলাম নূর(৯) এবং অন্য জনের নাম মোঃ সামিউল আলিম মাহফুজ(১০)। তারা বিউগল বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তারা বলে, এই সহজ টেলিফোনটি আমাদের স্কুলে তৈরি করা শিখিয়েছে।
তাদের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলে, আমরা স্কুলে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনির বইয়ে এটি দেখেছি। আমাদের বিজ্ঞান বইয়ে এটি আছে। তারা এটি কিভাবে তৈরি করেছে জানতে চাইলে তারা জানায়, কাগজ অথবা প্লাস্টিকের তৈরি দুটি কাপ, একটি সূঁচ, সূতা/তার (৫ মিটার)।
এটি কিভাবে তৈরি করেছে জানতে চাইলে বলে,
★ কাপ দুইটির তলায় মাঝখানে ফুটো করে সূতা / তার ঢোকাও। কাপের ভিতর দিকে সূতা/ তারের মাথা ঢুকিয়ে আটকে দাও যাতে সূতা/ তার বের হয়ে আসতে না পারে।
★ দুজন দুই দিকে একটু দূরে কাপ হতে এমন ভাবে দাঁড়াও যাতে সূতা/ তার টান টান থাকে।
★ একজন যখন কাপে কথা বলবে অন্যজন তখন কাপ কানে লাগিয়ে কথা শুনবে।
যোগাযোগ প্রযুক্তির ইতিহাস শুরু হয়েছে হাজার হাজার বছর আগে। তখন ধোঁয়ার সংকেত পাঠিয়ে ও ঢোল বাজিয়ে মানুষ যোগাযোগ করত। তথ্য যোগাযোগের পরবর্তী ধাপে চিঠি পত্র আদান প্রদান, সংবাদপত্রের প্রচলন, বই ও গবেষণা পত্রিকা ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষ তথ্য বিনিময় করত। আধুনিক কালে যোগাযোগের জন্য ব্যারন শিলিং ১৮৩২ সালে টেলিগ্রাফ আবিস্কার করেন। স্যামুয়েল মোর্স নামে একজন বিজ্ঞানী ১৮৩৭ সালে তারের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সংকেত পাঠাতে পারেন। দূরের মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলার জন্য ১৮৭৬ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন। এরপর রেডিও এবং তার ও পরে টেলিভিশন আবিষ্কার হয়েছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: