
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর এক জরিপে দেশে ধান চাষাবাদের সময়কাল অনুযায়ী ও চাষযোগ্য এলাকা ও বীজের জাত নির্ণয় করে ৩২ প্রকার রোগের সনাক্ত করা হয়েছে। ধান চাষাবাদে মুখ্য রোগ ১০টি এবং গৌণ ২২টি রোগের প্রতিক্রিয়ায় ধানের ১০ থেকে ১৫ ভাগ ফলন কম হয়।ধান চাষে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ছত্রাক ও কৃমি জনিত রোগের কারণে ধানের ফলন হ্রাস পায়।
গবেষণায় দেখা গেছে ধান গাছের জীবন চক্রের কাইচথোর থেকে শুরু করে ধানের ফুল ফোটা সময়ে অতিরিক্ত ঠান্ডা ও গরম ধান সহ্য করতে পারে না। ওই সময় বাতাসের তাপমাত্রা ১৮° সেলসিয়াস এর নিচে এবং ৩৬° ডিগ্রি সেলসিয়াস এর উপরে উঠানামা করে এতে করে ধান ফসলের চিটা দেখা দেয়।এছাড়াও,ধান চাষের খড়া ঝড় সহিংসতা পোকামাকড় ও রোগবালাই এর আক্রমণে চিটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অধিক।ধান গবেষকরা ধান গাছের জীবন চক্র ও ক্রিটিকাল তাপমাত্রা নির্ধারণ করে থাকে।
এদিকে,ধান অঙ্কুরোদগম অবস্থায় ১০° ডিগ্রি সেলসিয়াস চারা অবস্থায় ১৩° ডিগ্রি সেলসিয়াস ও কুশি অবস্থায় ১৫° ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং ফুল ফোটা অবস্থায়। ২০° ডিগ্রী সেলসিয়াস এর নিচে তাপমাত্রা চলে গেলে ধান ফসলের মারাত্মক প্রভাব পড়ে এতে করে ফলন হ্রাস পায়।
অসহনশীল ঠান্ডা গরম সহিংসতা অতিবৃষ্টি ঝড় পোকামাকড় ও রোগবালাই এমন প্রতিকূলতার শিকারে ধান ফসলের শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ চিটা হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।তাছাড়া রাতে তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ও দিনের বেলায় ২৮ থেকে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ৫ থেকে ৬ দিন সত্য প্রবাহে ধান ছিটা হওয়ার অন্যতম কারণ। ফুল ফোটার সময় এক থেকে দুই ঘন্টা অসহনীয় তাপমাত্রা বিরাজ করলে ধান চিটা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশই থাকে।
এদিকে ঝড়ো বাতাসের প্রকোপে পানির প্রস্বেদন প্রকৃয়া বেরিয়ে যায় এবং বাতাসে পরাগায়ন ও গর্ভধারণে ব্যাহতে শীষের দানা বৃদ্ধিতে বাধাগ্রস্থ ও বিকৃত হয়ে বন্ধ্যাত্ব ধানের জন্ম দেওয়ায় ধান চিটা হয়।
কৃষকের কষ্টার্জিত উৎপাদিত ফসল বৃদ্ধিতে প্রাকৃতিক কারণেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রচন্ড উত্তপ্ত অসহনীয় খড়া সত্য প্রবাহ ঝড়ো বাতাস সমূলে নির্মূল করা সম্ভব নয়,তবে আদর্শ কৃষক হয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় সঠিক পরিকল্পনায় কৃষি চাষাবাদে এগিয়ে নেওয়া যায় কৃষিকে সম্ভাবনার দুয়ারে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: