ঢাকা সোমবার, ২৫শে জানুয়ারী ২০২১, ১৩ই মাঘ ১৪২৭


আজ বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস


প্রকাশিত:
৮ মে ২০১৯ ০৪:২৫

আপডেট:
২৫ জানুয়ারী ২০২১ ২৩:১৬

আজ মঙ্গলবার (৮ মে) বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। বিশ্বের  অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হবে।

 

দিবসটির এবারের প্রতপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘বিয়ের আগে পরীক্ষা করলে রক্ত, সন্তান থাকবে থ্যালাসিমিয়া মুক্ত’।

 

চিকিৎসকদের মতে, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ। রক্তে যদি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে তাহলে থ্যালাসেমিয়া হয়। এর ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত মানুষ সাধারণত রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াতে ভুগে থাকেন। অ্যানিমিয়ার ফলে অবসাদগ্রস্থতা থেকে শুরু করে অঙ্গহানি পর্যন্ত ঘটতে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ল্যাব ওয়ান ফাউন্ডেশন অব থ্যালাসেমিয়ার তথ্য মতে, দেশের ১০ ভাগ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করছে। এর মধ্যে চার শতাংশই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। বেঁচে থাকতে এদের নিয়মিত রক্ত নিতে হচ্ছে। দেশে বছরে সাড়ে সাত হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। সে হিসেবে দিনে ২০ জনের বেশি শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে পৃথিবীতে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু এ রোগে ভুগছে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন। বাংলাদেশে প্রায় ১০-১২ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। বিশ্বে প্রতি বছর এক লাখ শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।


ভারতে থ্যালাসেমিয়া: ভারতকে বলা হয় থ্যালাসেমিয়ার রাজধানী। এই দেশে প্রতি বছর ১০ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মায়। এদের মধ্যে দারিদ্র ও চিকিত্সার অভাবে ৫০ শতাংশ আক্রান্ত ২০ বছর বয়স পূর্ণ করার আগেই মারা যায়। ভারতে মোট ৪০ লক্ষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক রয়েছেন। এদের মধ্যে ১ লক্ষ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। মেট্রোপলিস হেলথকেয়ারে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রতি দুজনে মহিলার এক জন রক্তাল্পতায় আক্রান্ত।

 

কী এই থ্যালাসেমিয়াঃ থ্যালাসেমিয়া একটি ব্লাড ডিজঅর্ডার যার ফলে শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। প্রধানত তিন ধরনের থ্যালাসেমিয়া হয়। আলফা থ্যালাসেমিয়া, বিটা থ্যালাসেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়া মাইনর। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হলে রক্তে লোহিত রক্ত কণিকা ও হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ অতিরিক্ত মাত্রায় কমে যায়। যার ফলে রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দেয়।
থ্যালাসেমিয়া একটি জিনগত রোগ। যদি বাবা ও মায়ের দু’জেনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তা হলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

কেন হয়: অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন জিনের কারণে থ্যালাসেমিয়া হয়। বাবা অথবা মা  কিংবা মা-বাবা উভয়েরই থ্যালাসেমিয়া জিন থাকলে বংশানুক্রমে সন্তানের মধ্যেও ছড়ায়।

 

লক্ষণ: জন্মের পর পরই এ রোগ ধরা পড়ে না। নবজাতক যেসব শিশুর এই সমস্যা থাকে তারা জন্মের সময় বেশ স্বাস্থ্যবান থাকে। তবে জন্মের প্রথম দুই বছরের মধ্যেই এর উপসর্গ দেখা যায়। অতিরিক্ত আয়রন, সংক্রমণ, অস্বাভাবিক অস্থি, প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া, অবসাদ অনুভব, দূর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, মুখ-মন্ডল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, অস্বস্তি, ত্বক হলদে হয়ে যাওয়া (জন্ডিস), মুখের হাড়ের বিকৃতি, ধীরগতিতে শারীরিক বৃদ্ধি, পেট বাইরের দিকে প্রসারিত হওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া, গাঢ় রঙের প্রস্রাব, হৃৎপিণ্ডে সমস্যা ইত্যাদি দেখে বোঝা যায় এর রোগ সম্পর্কে।

 

প্রতিরোধ: থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের একমাত্র উপায় বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা। এর জিন বহনকারী নারী গর্ভধারণ করলে তার সন্তান প্রসবের আগে অথবা গর্ভাবস্থায় ৮ থেকে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে প্রি-মেটাল থ্যালাসেমিয়া নির্ণয় করতে হয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: