ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর ২০২০, ১৪ই কার্তিক ১৪২৭


ঘূর্ণিঝড়ের আগে ও পরে করণীয়


প্রকাশিত:
৪ মে ২০১৯ ০০:২৮

আপডেট:
৪ মে ২০১৯ ০০:৪১

 

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় 'ফণী'। এ সময় দুর্যোগ প্রবণ এলাকার মানুষদের করণীয়:

দোয়া পড়ুন:
• “আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা”। (বুখারী)
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের থেকে ফিরিয়ে নাও, আমাদের উপর দিয়ো না।

• “আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরি মা ফিহা ওয়া খাইরি মা উমিরাত বিহি, ওয়া নাউজুবিকা মিন শাররি হাজিহির রিহি ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উমিরাত বিহি”। (তিরমিজি, মিশকাত)।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট এ বাতাসের ভালো দিক, এতে যে কল্যাণ রয়েছে তা এবং যে উদ্দেশ্যে তা নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার উত্তম দিকটি প্রার্থনা করছি। এবং তোমার নিকট এর খারাপ দিক হতে, এতে যে অকল্যাণ রয়েছে তা হতে এবং এটা যে উদ্দেশ্যে আদেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার মন্দ দিক হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সেই সাথে এখন যা যা করবেন:
১. পরিবার-পরিজনসহ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসুন। এক্ষেত্রে মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিন।
২. ব্যাটারীচালিত রেডিও বা মোবাইলে আবহাওয়া আপডেট শুনুন। অতিরিক্ত ব্যাটারি সংগ্রহে রাখুন এবং মোবাইলে চার্জ সংরক্ষণ করুন।
৩. অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র (ডাল, চাল, দিয়াশলাই, শুকনো কাঠ, পানি, ফিটকিরি, চিনি, নিয়মিত ব্যবহৃত ঔষধ, বইপত্র, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওরস্যালাইন, দলিল, টাকা-পয়সা, গহনা ইত্যাদি) পানি নিরোধক পলিথিন ব্যাগে ভরে পাতিলে ঢুকিয়ে উত্তমভাবে ঢাকনা দিয়ে ঘরের মধ্যে মাটিতে পুঁতে রাখুন।
৪. প্রয়োজনের আলোকে শুকনো খাবার (চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কিট ইত্যাদি) সংগ্রহ করুন ও সাথে রাখুন।

৫. খাবার পানি, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে রাখুন।
৬. দুর্যোগকালীন স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন এবং জরুরি প্রয়োজনে তাদেরকে ফোন করে পরামর্শ নিন।
৭. আপনার গরু-ছাগল নিকটস্থ উঁচু বাঁধে অথবা উঁচু স্থানে রাখুন। কোন অবস্থায়ই গোয়াল ঘরে বেঁধে রাখবেন না। কোন উঁচু জায়গা না থাকলে ছেড়ে দিন, বাঁচার চেষ্টা করতে দিন।
৮. টিউবওয়েলের মাথা খুলে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করুন এবং টিউবওয়েলের খোলা মুখ পলিথিন দিয়ে ভালোভাবে আটকে রাখুন যাতে ময়লা বা লবণাক্ত পানি টিউবওয়েলের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে।

৯. যেখানে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা নেই, সেখানে যাদের পাকা ঘর রয়েছে তারা ঘরের ভেতরে থাকুন এবং সকল দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন।
১০. সকল বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন বন্ধ করুন। শর্ট সার্কিট এবং আগুন প্রতিরোধের জন্য সমস্ত যন্ত্রপাতির (বৈদ্যুতিক) সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন।
১১. ছাইয়ের স্তুপে আগুন সম্পূর্ণ নেভানো হয়েছে কিনা তা ভালোভাবে লক্ষ্য করা দরকার। কারণ বৃষ্টির আগেই দমকা বাতাস শুরু হলে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
১২. সবাই মিলে ধৈর্যের সাথে একে অপরকে সহযোগিতার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি অতিবাহিত করুন

দুর্যোগ পরবর্তী করণীয়:
১. রাস্তা-ঘাটের উপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে ফেলুন যাতে সহজে সাহায্যকারী দল আসতে পারে এবং দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হয়।
২. আশ্রয়কেন্দ্র হতে মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করুন এবং নিজের ভিটায় বা গ্রামে অন্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিন।
৩. অতি দ্রুত উদ্ধার দল নিয়ে খাল, নদী, পুকুর ও সমুদ্রে ভাসা বা বনাঞ্চলে বা কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার করুন।
৪. ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণ যাতে শুধু এনজিও বা সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজে যেন অন্যকে সাহায্য করে সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে।
৫. রিলিফের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সচেষ্ট হোন। রিলিফের পরিবর্তে কাজ করুন। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করুন। রিলিফ যেন মানুষকে কর্মবিমুখ না করে কাজে উৎসাহিত করে সেভাবে রিলিফ বিতরণ করতে হবে।

৬. দ্বীপের বা চরের নিকটবর্তী কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধারের জন্য দলবদ্ধ হয়ে দড়ি ও নৌকার সাহায্যে লোক উদ্ধারকর্ম আরম্ভ করুন। কাদায় আটকে পড়া লোকের কাছে দড়ি বা বাঁশ পৌঁছে দিয়ে তাকে উদ্ধার কাজে সাহায্য করা যায়।
৭. ঝড় একটু কমলেই ঘর থেকে বের হবেন না। পরে আরও প্রবল বেগে অন্যদিক থেকে ঝড় আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৮. পুকুর বা নদীর পানি ফুটিয়ে পান করুন। বৃষ্টির পানি ধরে রাখুন।
৯. নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ লোকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ত্রাণ বন্টন (আলাদা লাইনে) করুন।
১০. দ্রুত উৎপাদনশীল ধান ও শাক-সব্জির জন্য জমি প্রস্তুত করুন, বীজ সংগ্রহ করুন এবং কৃষি কাজ শুরু করুন যাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ফসল ঘরে আসে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: