ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর ২০২০, ৯ই কার্তিক ১৪২৭


হাঁটা ও সাইকেলে ফিরি, বাসযোগ্য নগর গড়ি


প্রকাশিত:
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৮:০১

আপডেট:
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৮:০৫

নিউজ ডেস্কঃ  বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় আগামীকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে পালিত হবে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আজ (২১ সেপ্টেম্বর ২০২০) সোমবার ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর ‘হাঁটা ও সাইকেলে ফিরি, বাসযোগ্য নগর গড়ি’ স্লোগানে ৬০টি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। বর্তমান (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে বাইরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে না। কর্মসূচির মধ্যে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের মাঝে হাঁটা ও সাইকেল চালানোর প্রতি উৎসাহিত করতে প্রবন্ধ ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দৈনিক পত্রিকায় এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

এছাড়া ফেসবুক প্রোফাইল ফ্রেম তৈরি, দিবসের দিন ‘আমি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করব না’ মর্মে অনলাইন ক্যাম্পেইন ও মতামত নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দিবসকে কেন্দ্রকে জনসচেতনতার লক্ষ্যে পোস্টার, লিফলেট এবং বিভিন্ন সড়ক দ্বীপে ফেস্টুন স্থাপন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে ওয়েবিনার আয়োজন করা হয়েছে। ওয়েবিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামসুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে বরং সাইকেল, হাঁটা বা গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ৭০’র দশকে ইউরোপে গাড়িমুক্ত দিবসের সূচনা হয়। ২০০৬ সাল থেকে দেশে বেসরকারি উদ্যোগে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে। তবে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে এটি পালন শুরু হয়। এই দিবসের অঙ্গীকার অনুযায়ী ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমানে যানজটের কারণে প্রতিদিন লাখ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। জ্বালানির অপচয় হচ্ছে, বাড়ছে দূষণ। এ জন্য বছরে হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়ে থাকে। বর্তমানে ঢাকায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে। প্রতিদিন যোগ হচ্ছে প্রায় ৪০টি নতুন ব্যক্তিগত গাড়ি। এছাড়া মোটরসাইকেলের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটিও দুঘটনা ও দূষণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। তাই উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে মেট্রোরেল, বাস র্যাপিড ট্রানজিট, বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজ, প্রয়োজনীয় সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং মানসম্মত ফুটপাত তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো সম্পন্ন হলে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন- ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মো. জাকির হোসেন মজুমদার, সাংবাদিক নিখিল ভদ্র প্রমুখ।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: