ঢাকা বুধবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ই আশ্বিন ১৪২৮


গোল ঠেকানোর দায়িত্ব সবার!


প্রকাশিত:
২৫ মে ২০২১ ১৫:৩৩

আপডেট:
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:০৩

নিউজ ডেস্কঃ গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের বিস্তর লেখালেখির ফলে টনক নড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের, নড়েনি অসচেতন স্বার্থান্বেষী মহলের। সম্প্রতি সিউলস্থ দূতাবাস ও বোয়েসেলের যুতসই বাড়তি সতর্কতা, বিস্তর কড়াকড়ি, সাবধানতা কোনো কিছুই কাজে আসছে না বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজারে।

এত সতর্কতা, নানা উদ্যোগের পরেও কোরিয়ায় প্রবেশ করেছে বাংলাদেশি কোভিড পজিটিভকর্মী। বোয়েসেলের আইনকে তোয়াক্কা করে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হাজার হাজার প্রবাসীর স্বপ্নের টুটি চেপে ধরছে কয়েকজন প্রবাসী। কোয়ারেন্টাইন না মেনেই কোরিয়ায় প্রবেশ করেছে তারা।

সূত্র বলছে, দ্বিতীয় নিষেধাজ্ঞার পরে এখন পর্যন্ত যারা কোরিয়া গেছে কেউ কেউ সেখানে পড়াশোনারত পিএইচডি ডিগ্রিধারী ব্যক্তির সহধর্মিণী বা ব্যবসায়ী। খোদ কোরিয়ায় কর্মরত ই৯ ভিসাধারী ও বাংলাদেশে আটকেপড়ারা প্রশ্ন তুলেছে এই বিষয়ে। এতে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

দূতাবাস, বোয়েসেলের সমালোচনা শুধু নই, সমালোচনায় কয়েকজন কোয়ারেন্টিন না মানা প্রবাসীর বিরুদ্ধে। খোদ বোয়েসেল নোটিশ দিয়েছে ই৭ ভিসাধারী নাজমুল সাকিব ও শুয়াইব ইসলামকে নিয়ে। সর্বমহলে প্রশ্ন উঠেছে মুষ্টিমেয় লোকের কারণে কোরিয়ান বাজার কেন হুঁমকিতে পড়বে। তারা কাদের লাভবান করতে চায়।

এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে কোরিয়া। সুযোগ নেবে অন্যদেশ। শ্রম বাজার ধরে রাখতে এই নিয়ে ব্যাপক লেখালেখির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি। পাশাপাশি সিউলস্থ দূতাবাস ও বোয়েসেল শ্রমবাজার বাঁচাতে মরিয়া।

এত কিছুর পরও বাংলাদেশ থেকে কোরিয়া যাচ্ছে করোনা পজিটিভ। এদিকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে দূতাবাস ও বোয়েসেল। অনেকের মতে, দূতাবাস ও বোয়েসেলকে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো অন্যায়। কারণ আমরা নিজেরা আইনের কথা বলে আইন মানি না।

বোয়েসেলের সূত্র জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়মিত এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) কর্মীদের ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু ও কোভিড হোক প্রতিরোধকল্পে গত ১২ এপ্রিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ থেকে সকল যাত্রী (বিদেশি নাগরিকসহ) দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশের পূর্বে কোরিয়ান কিট দ্বারা কোভিড টেস্টসহ ৭ দিনের কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করতে হবে।

২৬ জন যাত্রী কোরিয়া গমনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলে গত ১৭ মে ৬ জন যাত্রী সাতদিনের কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে দক্ষিণ কোরিয়া গমন করেন। অবশিষ্ট যাত্রীরা দক্ষিণ কোরিয়া গমনের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।

কিন্ত বাংলাদেশ দূতাবাস গত ১৮ মে জানায়, বাংলাদেশ থেকে আসা ২ জন কর্মীর টেস্টে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। বোয়েসেল বলছে, যে দু’জনের শরীরে কোভিড পজিটিভ এসেছে তারা কোয়ারেন্টাইন না মেনে কোরিয়া গেছে।

প্রশ্ন উঠেছে, এটা কি করে সম্ভব। অথচ বিভিন্ন ভিসাধারী ও কোরিয়াস্থ বাংলাদেশি সংগঠনগুলো বাংলাদেশ থেকে কোয়ারেন্টিন নিয়ম করতে অনুরোধ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। যা দূতাবাসের পরামর্শে বোয়েসেল কোয়ারেন্টিন নিয়ম করে।

সূত্র জানায়, যেখানে বাংলাদেশিদের জন্য কোরিয়ার শ্রম বাজার পুনরায় খুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত এক বছরে বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয়বার কোরিয়ার বন্ধ দরজা খোলার চেষ্টা চলছে সেখানে পুরো শ্রম বাজারকে হুঁমকির মুখে ফেলা হচ্ছে কেন। এত কড়াকড়ির পরও কিভাবে কোভিড পজিটিভ কর্মী কোরিয়া যাচ্ছে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়: কোরিয়া প্রবাসীরা কী বলছে, কী লিখছে সামাজিক মাধ্যমে?

আলী নামে একজন ইপিএস কর্মী ফেসবুকে লিখেছেন, নাজমুল সাকিব, শুয়াইব ইসলাম, তানজীদ ইসলাম, সাইফুল ইসলাম জাকিরের ছবি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক।

সাজ্জাদ হোসাইন লিখছেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া মানুষগুলো কি জ্বীনের মাধ্যমে যাচ্ছে নাকি ইমিগ্রেশন পার করে?

তিনি লেখেন, যারা বোয়েসেল আইন ভঙ্গ করে হাজারো ইপিএস কর্মীর সঙ্গে প্রতারণা করে কোরিয়া প্রবেশ করেছেন তারা প্রকাশ্যে মাফ না চাইলে সেই স্বার্থপরদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাব।

সাবেক ইপিএস কর্মী কাউসার আহমেদ সুমন লিখেছেন, এত বছর কোরিয়া থাকার পরও দুই দুইবার নিষেধাজ্ঞা দেয়া সত্ত্বেও যারা জালিয়াতি করে কোরিয়ায় ঢুকছে, এদের ছবিসহ ফেসবুকে দিয়ে দেয়া হোক। সবাই চিনে রাখুক তাদের। যারা দেশের কথা না ভেবে শুধু নিজের কথা চিন্তা করে।

উজ্জ্বল দেওয়ান নাঈম লিখেছেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশের পূর্বে সকল যাত্রী (বিদেশি নাগরিকসহ) বোয়েসেল-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কোভিড টেস্টসহ বাধ্যতামূলক ৭ (সাত) দিনের সঙ্গনিরোধ সম্পন্ন করে বোয়েসেল থেকে সনদ প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি লেখেন, এরপরও কিছু যাত্রী এ নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই দক্ষিণ কোরিয়ায় গমনের পর দক্ষিণ কোরিয়া সরকার কর্তৃক কোভিড পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছে।

ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অনিশ্চিতসহ দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের নিকট বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং কোরিয়ার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার সম্প্রসারণ হুঁমকির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশের পূর্বে যে সকল যাত্রী বোয়েসেল কর্তৃক সঙ্গনিরোধ সম্পন্ন করে সনদ গ্রহণ করেছে কেবল তাদেরকে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশের অনুমতি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে বোয়েসেল থেকে পত্র দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় স্বার্থে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং টেকসই করার নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা আবশ্যক।

এইচ এম আরিফ লিখেছেন, বোয়েসেলের নির্দেশনা না মেনে যে যার মতো ফ্লাইট টিকিট কেটে কোরিয়ায় গমন করছে। এতে করে করোনা পজিটিভ হয়ে হুঁমকির মুখে ফেলছেন দেশে আটকে থাকা ইপিএস কর্মীদের। এভাবে চলতে থাকলে নিষেধাজ্ঞা উঠানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় বোয়েসেলের উচিত কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট প্রদান করা এবং সেটি ছাড়া যেন বাংলাদেশের কোনো নাগরিক কোরিয়ায় না যেতে পারে সেটি বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনকে অবহিত করা। তাহলেই তো সমাধান হয়ে যায়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: