ঢাকা শুক্রবার, ১৪ই মে ২০২১, ৩১শে বৈশাখ ১৪২৮


পবিত্র মাহে রমজানের গুরুত্ব ও পবিত্রতা মুমিনের অর্জন!


প্রকাশিত:
২৯ এপ্রিল ২০২১ ১৫:৫৯

আপডেট:
২৯ এপ্রিল ২০২১ ১৬:১০

এম এ করিম, নিউজ ডেস্কঃ পবিত্র মাহে রমজানের মাস হল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য একটি বড় উপহার আর তাই পবিত্র মাহে রমজানের সিয়াম সাধনার উদ্দেশ্যে তাকওয়া অর্জনে আরবি বর্ষপঞ্জির নবম মাসে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআনুল কারীমে আরবি বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজান অার এই রমজানেই কোরআন নাজিল হয় আর তাই মহান আল্লাহ তাআলার রমজান মাসকে করেছেন অন্যান্য ১১ মাসের চেয়ে মহিমায় উদ্ভাসিত ও সম্মানিত।

(সূরা আল-বাকারা-১৮৫) নং আয়াতে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন, রমজান মাস হল কুরআন নাযিলের মাস আর তাই এতে নাযিল হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কুরআনুল কারীম যা মানুষের পথপ্রদর্শক ও স্পষ্ট নির্দেশনা যা সত্যা-মিথ্যার পার্থক্য কারীর মাস।

(সূরা আল-বাকারা-১৮৩) নং আয়াতে বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর যাতে করে তোমরা পরজগারী তথা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।পবিত্র রমাদান নির্দিষ্ট কয়েকদিন বা একটি মাসে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'আলা আরও বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ হয়তো বা সফরে গেলে তা অন্যান্য সময় রমজান পূর্ণ করে নিবে এদিকে সিয়াম অর্থ বিরতি থাকা ফিরিয়ে আনা।(সূরা মারইয়াম ২৬) নং আয়াতে বলা হয়,আমি আল্লাহ তা'আলার জন্য সাওম মানত করেছি সুতরাং আজ আমি কারো সাথে অহেতুক অশ্লীল কথাবার্তা বলবো না তাছাড়া রোজা হচ্ছে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন কিছু পানাহার ও যৌন চাহিদা থেকে বিরত থাকার নাম হচ্ছে সাওম বা রোজা।

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,রমজান মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় আর জাহান্নামের দরজাসমূহ কে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে করা হয় শৃঙ্খলা বন্দি।মহান আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসকে যেভাবে সম্মানিত করেছেন ঠিক তদ্রুপ এ মাসে ফরজ ইবাদত সাওম তথা রোজাকেউ অত্যন্ত ফজিলত পূর্ণ করেছেন।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,যে বান্দা আল্লাহর একদিন সিয়াম পালন করবে মহান আল্লাহ তায়ালা তাহার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে ৭০ বছর দূরে রাখবেন।রমজানের শুরু সাহরী অার সাহরীতে রয়েছে ফজিলত পূর্ণ ইবাদতের পাশাপাশি তার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল আমলেই বরকতপূর্ণ ইবাদত।

রোজা জান্নাত লাভের উপায় বর্ণনা করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যাকে বলা হয় রায়হান আর কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে শুধুমাত্র রোজাদাররা প্রবেশ করবে এবং রোজাদাররা প্রবেশে এ দরজা বন্ধ হয়ে যাবে ফলে অন্যকেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না(সহী বুখারী-১৭৯৭)।

এদিকে রোজাদারদের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর মেশক এর চাইতে সুগন্ধির কথা উল্লেখ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,যার হাতে মোহাম্মদের প্রাণ তার শপথ,রোজাদারের মুখের গন্ধ কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মিশুকের চাইতে সুগন্ধি(বুখারী শরীফ-১৮৯৪)।

রমজান মাস ইবাদতের মাস এ মাস অত্যন্ত বরকতময় মাস এ মাসের ইবাদতকে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন তাছাড়া এ মাস আসার পূর্বে আমাদের উচিৎ ইবাদত-বন্দেগির জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা।এবং দুনিয়ার অন্যান্য কাজ কমিয়ে কিভাবে বেশি বেশি আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও তার গোলামী করা যায় সে অনুযায়ী আমাদের পবিত্র মাহে রমজান মাসে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে এমাসে সকল ইবাদতে মশগুল থেকে রমজানের শিক্ষা অর্জনে মুমিনদের সর্বাধিক প্রচেষ্টা থাকা দরকার।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: