ঢাকা রবিবার, ২৩শে জানুয়ারী ২০২২, ১১ই মাঘ ১৪২৮


বিমানবাহিনী, ভলিবল কোর্ট হয়ে বাইশ গজের নায়ক এবাদত


প্রকাশিত:
৫ জানুয়ারী ২০২২ ১০:৪৭

আপডেট:
২৩ জানুয়ারী ২০২২ ২২:১৩

টাইগার পেসার এবাদত হোসেন

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদেরকে হারানো কতটা কঠিন সেটা সবারই জানা। তাদের মাটিতে এশিয়ার পরাশক্তি পাকিস্তান সবশেষ জিতেছে ২০১১ সালে, ভারত সবশেষ জিতেছে ২০০৯ সালে আর শ্রীলঙ্কা সবশেষ জিতেছে ২০০৬ সালে।

দেশটিতে এর আগে সব ফরম্যাট মিলে ৩৩ ম্যাচ খেললেও জয় ছিল না বাংলাদেশের। এবারও হয়তো কেউ ভাবেনি বাংলাদেশ দলটা যে হারিয়ে দেবে কিউইদের।

কেউ ভাবুক আর না ভাবুক, টাইগার পেসার এবাদত হোসেন লক্ষ্য ঠিক করেই ধরেছিল নিউজিল্যান্ডের বিমান। কিউইদের ৮ উইকেটে হারিয়ে এবাদত বলেছেন, “নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আমরা ২১ বছর ধরে কোনো ম্যাচ জিততে পারিনি। এবার একটা লক্ষ্য ঠিক করে এসেছিলাম। নিজেদের হাত তুলেছি, আর বলেছি তারা টেস্ট চ্যাম্পিয়ন। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তাদের হারানোর উদাহরণ রেখে যেতে হবে।”

উধাহরণটা ঠিকই তৈরি করে দিলেন এবাদতরা। এই জয়ে সামনে থেকে বড় ভূমিকা পালন করেন এবাদত। প্রথম ইনিংসে ১ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৬ উইকেট। বলা যায় একাই ধস নামান কিউই ব্যাটিং লাইন-আপের।

নিজের এমন সাফল্যের কৃতিত্ব বোলিং কোচ ওটিস গিবসনকে দিয়ে বলেছেন, “গত দুই বছরে ওটিস গিবসনের সঙ্গে আমি কাজ করেছি। ঘরের মাঠে কন্ডিশন সব সময় ফ্ল্যাট থাকে। আমরা এখনও বাইরে কীভাবে বল ও রিভার্স করতে হয় সেটা শিখছি। আমার সাফল্যের জন্য কিছুটা ধৈর্য ধরতে হয়েছে।”

কিউইদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এই জয়ের নায়ক এবাদত হোসেনকে এতদূর আসতে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক লম্বা পথ। ১৮ বছর বয়সে একজন ভলিবল খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে। এরপর ২২ বছর বয়সে পেসার হান্ট দিয়ে স্বপ্ন দেখেন ক্রিকেটার হওয়ার।

সেই স্বপ্নটাই পূর্ণতা পায় ২৫ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক দিয়ে। এই কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে বাইশ গজের নায়ক হলেও ভুলে যাননি অতীত। তাইতো প্রতিটা উইকেট নিয়ে স্যালুট জানিয়ে স্মরণ করেন বিমান সেনাদের। এরজন্য অনেক কটূক্তির শিকারও হতে হয় তাকে।

“আমি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একজন সদস্য, জানি কীভাবে স্যালুট দিতে হয়। আর ভলিবল থেকে ক্রিকেটে আসার গল্পটা অনেক লম্বা। আমি ক্রিকেটটা উপভোগ করছি, বাংলাদেশ ও বিমানবাহীনর প্রতিনিধিত্ব করাও।”



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: